বাঙালি? না মুসলিম? না বাংলাদেশি? না ভারতীয়?

  • 09 January, 2026
  • 0 Comment(s)
  • 203 view(s)
  • লিখেছেন : উৎসা সারমিন
আমি নাস্তিক, বাঙালি, বামপন্থী, নারীবাদী। কিন্তু আমার নিজের পরিচয়ের ওপর কোনও অধিকার নেই। এতদিনে যদিও অনেকেই বুঝেছে যে নাস্তিক বা আস্তিক বাঙালিরাও মুসলমান সমাজে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন এখন আমার নাগরিকত্ব নিয়ে। বাঙালি বলে পরিচিত হতে চাওয়ার খেসারত কাগজ গুছিয়ে রাখা। কোনদিন কাজে লেগে যায়! ২০২৩-এ দেশের অন্যতম সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের নয়ডা অফিসে কাজ করার সময় এক কলিগের কথা এখনো কানে ভাসে "তুম কল্কাত্তা কা মুসালমান  হওঁ? বাংলাদেশি তো নাহি হওঁ না? হা হা হা।"

২০১১ সালে আমি প্রথমবার দিল্লি যায় কলেজে পড়তে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজ ফর উইমেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রীরা আসে এই কলেজে। বিভিন্ন ভাষার, বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তরের এবং বিভিন্ন ধর্মের। ভারতের এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় - বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য।

তা সেই ঐক্যের মধ্যে এক সন্ধ্যেবেলায় হস্টেলে বসে আড্ডা মারার সময় এক অদ্ভুত প্রশ্ন এলো কানে - ''তুই মুসলমান তো বাঙালি কি করে?"

কলকাতা থেকে গেছি। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শনে গড়ে ওঠা পাঠ ভবনের ছাত্রী আমি। ছোটো থেকে শিখেছি মানুষের পরিচয় জটিল, বহুস্তরীয়। ভাষা আর ধর্ম যে আলাদা সেটা স্কুল, বাড়ি, সবসময় বলে গেছে। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভাবে সচেতন একটা পরিবেশে বড়ো হওয়ার জন্য ধারনা ছিল যে এই জ্ঞান সর্বজনীন। তাই এই সরলভাবে করা আপাত দৃষ্টিতে নিষ্পাপ একটা প্রশ্নে হোঁচট খেলাম। কই, কেউ তো আগে এরকমভাবে আমার বাঙালি সত্তাকে প্রশ্ন করেনি!

কি বলবো না বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলাম, "মানে?"

"মানে মুসলিমরা তো উর্দু বলে। বাংলা তো বলে না।"

১৭ বছরের আমি বেশ রেগে গেছিলাম ততক্ষণে। একে গর্বিত বাঙালি, তার ওপর আপাদমস্তক নাস্তিক। তাকে কি না উর্দুভাষী মুসলমান বলে দিল? কোনদিনই ধারালো তর্কের মানুষ নই আমি। রাগে গর্জাতেই জানি শুধু। গর্জাতে গর্জাতে মাকে ফোন করলাম। মা শিখিয়ে দিলো কি বলতে হবে, আবার যদি এরকম প্রশ্নের মুখে পড়ি।

কিছুদিন পর কলেজে আরেক প্রশ্নের সম্মুখীন, "নাস্তিক কি করে? মুসলিম ঘরের মেয়ে নাস্তিক কি করে?"

"আরে ভগবানে বিশ্বাস না করলেই নাস্তিক। সে মুসলিম হোক বা হিন্দু।"

"তাহলে তুই কে?"

এমন গভীর তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর তো আমি আজ অবধি জানি না। তখন তো আরই জানতাম না। বামপন্থা আর নারীবাদ সবে পড়ছি, শিখছি, কাজে লাগাচ্ছি। শুধু জানতাম যে আমি একজন নাস্তিক বাঙালি।

প্রশ্নের মানে না বুঝতে পেরে প্রফেসরের কাছে গেলাম। উনি বোঝালেন উত্তর ভারতে নাকি জাত ধর্ম দেখে লোকে বোঝে কাদেরকে কাছে টানতে হবে, কাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। কে তোমার বন্ধু হবে নির্ভর করবে বিশ্বাসের বা জীবনযাপনের মিলে। আমার সহপাঠীরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না আমাকে কোন দলে রাখবে, তাই আমার পরিচয় নিয়ে এতো প্রশ্ন। তখনো বুঝিনি ম্যামের কথার তাৎপর্য।

বুঝলাম ২০১৫ সালে আখলাকের হত্যার পর। ফ্রিজে গরুর মাংস রাখার সন্দেহে একদল গো-রক্ষক উত্তর প্রদেশের মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে খুন করেছিল দশ বছর আগে।

স্নাতকোত্তরের ছাত্রী আমি তখন। ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন ক্যাম্পাসে পড়ছি। তর্ক তখনো করতে জানিনা। কিন্তু রাগ আরও গাঢ় আর অল্প বয়সের দম্ভ। রাস্তা ঘাটে অবিচার দেখলে ঝগড়া করি, উঁচু গলায় বিচার চাই। জানি সেটা আমাদের অধিকার। কিন্তু আখলাকের গণ হত্যার পর দেশে একটার পর একটা ঘটনা কোথাও যেন এই অধিকারবোধটাকে আস্তে আস্তে দুর্বল করে দিচ্ছিল। সচেতন হতে শুরু করলাম নিজের নাম নিয়ে।

ছাত্র রাজনীতি করার দরুন বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলতে হত। লক্ষ্য করলাম আমার কথার গুরুত্ব নির্ভর করছে আমার নামের ওপর। কি বলছি সেটা না, কে বলছে তার ওপর রাজনীতি মানা যাবে কি না সেই সিদ্ধান্ত।

মুসলমান বলে আখলাকের প্রতি টান। বাঙালি মেয়ে বলে বেশি কথা বলি, বেশি প্রশ্ন করি। কারণ আমরা বেশি স্বাধীনতা পাই। আবার বেশি চিৎকার করলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে চাওয়া স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক দলগুলোর নজরে পড়ে  শারীরিক বিপদ হতে পারে।

২০১৬-র হাইদ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলার মৃত্যুর পর, সময়ের চাহিদা জাতি বা ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতিকে আরও সুস্পষ্ট করল। আমার পরিচয় নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠে এলো।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী বলে ততদিনে অনেকটা তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেছি। জানি নিরপত্তাহীনতার মুখে পড়লে গোষ্ঠীভিত্তিক রাজনীতি চাড়া দেয়। কিন্তু নিজের বাস্তবের সাথে এই তাত্ত্বিক জ্ঞানের সংযোগ ঠিক পাচ্ছি না। কোনও গোষ্ঠীই ঠিক যেন আমার পরিচয়ে সন্তুষ্ট নয়।

উত্তর ভারতের রীতিনীতি মেনে চলা মুসলমান সমাজের কাছে শুনলাম, "বাঙালি মুসলমানরা আবার মুসলমান হয় নাকি?" বাংলাভাষী মুসলমানদের রীতিনীতি নাকি হিন্দুদের মতো।

ছোটো থেকে শুনেছি আমার দাদির রান্নাঘরে লক্ষ্মী ঠাকুরের একটা ছবি রাখা থাকত। দাদু দিদা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া লোক। মায়ের দিদাদের নাম ছিল লক্ষ্মী, নারায়ণী। এক ধরনের ধার্মিক বা সাংস্কৃতিক মিশ্রণে বড়ো হয়েছি।

আমার প্রথম নাম নাকি 'হিন্দু' নাম কারণ বাংলা ঘরের মেয়েকে বাঙালি বাবা মা উর্দু বা আরবি শব্দের নাম দেয়নি। তার ওপর আমি অধার্মিক, নাস্তিক। তাই সংখ্যাগুরু আগ্রাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আমার ভয়টা ভয় না। আমার বাবা মায়ের ভয়টা ভয় না। যত সংকীর্ণ বিশ্বাস, ততো ভয়ের ওপর অধিকার।

অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদীদের কাছে আমি নাস্তিক হলেও গো-মাংস ভক্ষক, সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে একজন। ক্রিকেট হলে নাকি পাকিস্তানকে সাপোর্ট করি!

বামপন্থী  রাজনীতি, যেখানে আমি প্রাণ ও নিঃশ্বাস, দুটোই পেয়েছিলাম, সেখানে শুনলাম আমার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা নাকি বামপন্থী বিপ্লবকে দুর্বল করে দেবে।

মুসলিম পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে বললে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে মুসলিম সমাজকে আরও ক্ষতি করবো। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদীদের দায়িত্ব নাকি আমাকে মুসলিম পিতৃতন্ত্রের হাত থেকে বাঁচানো। তারপর না হয় পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। তখনো যদিও আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে খুব একটা তৎপরতা চালু হয়নি।

২০২০। সবে দেশে ফিরেছি লাতিন আমেরিকা থেকে। এনআরসি আর সিএএ নিয়ে তুমুল তর্ক বিতর্ক।

এর এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। ছোট্ট করে বলতে হলে বলা যায়, আসামে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার জন্য অহমীয়াদের মধ্যে বাঙালি বিদ্বেষ দেখা দেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই আসামে মাঝেমধ্যেই ‘বহিরাগত’ তাড়ানোর দাবি নিয়ে আন্দোলন আর হিংসা দেখা গেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হয়ে আসামে আসে। ঠিক কতজন থেকে গিয়েছিলেন, তার সঠিক হিসেব নেই। এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ১৯৭৯ সালে, যখন ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়, ভোটার তালিকা থেকে অভিবাসীদের নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৫ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে ঠিক করা হয়, ১৯৭১ সালের পর যারা আসামে এসেছে, তাদের অবৈধ ধরা হবে।

শুরুতে এই আন্দোলন সব অভিবাসীর বিরুদ্ধেই ছিল - বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলিম, মারোয়ারি বা নেপালি। কিন্তু পরে এটা ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক রঙ নেয়। ভারতীয় জনতা পার্টির অবিভাবক সংগঠন আর এস এস , হিন্দু শরণার্থী ও মুসলিম অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে আসামের  রাজনীতিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী মতাদর্শকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়। তখন বাঙালি হিন্দুদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে দেখানো  শুরু হয়, যাদের রক্ষা করা দরকার, আর বাঙালি মুসলিমদের দেখানো হয় ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে। এই ভেদাভেদ সমাজে ভয়ংকর উত্তেজনা তৈরি করে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ ফল দেখা যায় ১৯৮৩ সালে, যখন আসামের নেলিতে হাজার হাজার বাঙালি মুসলিমকে হত্যা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাঙালি মুসলিমদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করার ধারণা আরও শক্ত হয়ে ওঠে।

তার ফল এই এনআরসি আর সিএএ। ভারতের সব মুসলমান খারাপ, এখান থেকে কথা ঘুরে ব্যাপারটা দাঁড়ায় বাঙালি মুসলমান খারাপ। তারা বহিরাগত। তাদের জন্য ভোটের ফলাফল পালটে যায়। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারে না বহিরাগত বাঙালি মুসলমানদের জন্য।

২০২২-এ দিল্লি ফিরি চাকরি করতে। বাড়ি ভাড়া পাবো কি না সেই নিয়ে চিন্তা। ২০১৬-র পর সমাজ অনেক বদলেছে। অসহিষ্ণুতা  লোকের চোখে  মুখে। এক বামপন্থী  বন্ধু বলল বেশি ভাবছি। ওর মুসলমান বন্ধুদের নাকি বাড়ি পেতে অসুবিধা হয়নি। সেই আশায় গেলাম খুঁজতে।

আমি কোনদিন ধর্মের প্রতীকী শরীরে বহন করি না। নাস্তিক বলেই। তাই আধার কার্ডে বাবার নাম না দেখা অবধি লোকে ঠিক আমাকে চিহ্নিত করতে পারে না। সেইখানেই গণ্ডগোল। মুসলিম বলে তো অনেক বাড়ি ঠিক হতে হতে পেলাম না। শেষে গেলাম এক মুসলিম ব্রোকারের কাছে। সে বাড়ির মালিকদের কাঁচুমাচু মুখে বলে, "মানে দেখুন বাঙালি কিন্তু শিক্ষিত মেয়ে…"   

এই বাক্যগুলো কোনদিন শেষ হয়না। না বলা কথাগুলো হাওয়াতে ঝুলতে থাকে ভাড়াটে হিসেবে আমি আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তার রায় হয়ে।

ধীরে ধীরে মুসলমান না বাঙালি প্রশ্নটা হয়ে ওঠে বাংলাদেশি না ভারতীয়।

পরে সেই বামপন্থী বন্ধুর কাছে জানতে পারি তার বাকি মুসলিম বন্ধুরা অবাঙালি ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে। রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্তরে এমন বাংলাদেশি উরফ বাঙালি মুসলিম বিদ্বেষ বেড়েছে ততদিনে যে, যারা আগে বাঙালি মুসলমানকে মুসলমান মনে করত না, তারা এখন উৎসাহের সাথে তাদের বহিরাগত বাংলাদেশি বলছে।

জ্ঞানপাপী বলে এটাও বুঝি কেনো বলছে। ২০১৪ থেকে উত্তর ভারতের মুসলিম সমাজ এক চরম চাপের মধ্যে ছিল। ক্রমাগত তাদেরকে দেশের প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করে যেতে হচ্ছিল প্রাণহানির ভয়ে। বিশেষত অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের মধ্যে। সেই ভয় বা সেই বিপদ এখনো যায়নি। গ্রামে গঞ্জে এখনো নৃশংস হিংসার কথা শোনা যায়। কিন্তু ২০২২-এর পর একটি নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র সম্প্রদায়কে আসল শত্রু বলে চিহ্নিত করায়, বাকিদের ওপর চাপ কমেছে। সেটাকেই আঁকড়ে ধরেছে এক নিরাপত্তাহীন উত্তর ভারতীয় অবাঙালি মুসলিম  সম্প্রদায়। তবে এটাও ঠিক যে বাঙালি মুসলমানদের তারা খুব একটা নিজেদের সম্প্রদায়ের অংশ বলে মনে করেনি। তাই খুব তৎপরতার সাথে তাদের অনুপ্রবেশকারী বলাটাও আশ্চর্যের বিষয় না। আত্মরক্ষার তাগিদে বাঙালি মুসলমান এক সুবিধাজনক শত্রুতে পরিণত হল।

তারই ভার বহন করতে হচ্ছে আজকে গুরুগ্রামের বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী শ্রমীকদের। তাই সোনালি বিবির ওপর প্রবল ঝড় বয়ে গেছে।  দিল্লিতে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে  হাজার হাজার বাঙালি মুসলমান পরিবার, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছে যারা।

আর আমার পরিচয়?

এখনো প্রশ্নের সম্মুখীন। সন্দহের সম্মুখীন। আমি নাস্তিক, বাঙালি, বামপন্থী, নারীবাদী। কিন্তু আমার নিজের পরিচয়ের ওপর কোনও অধিকার নেই। এতদিনে যদিও অনেকেই বুঝেছে যে নাস্তিক বা আস্তিক বাঙালিরাও  মুসলমান সমাজে  জন্ম নিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন এখন আমার নাগরিকত্ব নিয়ে। বাঙালি বলে পরিচিত হতে চাওয়ার খেসারত কাগজ গুছিয়ে রাখা। কোনদিন কাজে লেগে যায়!

২০২৩-এ দেশের অন্যতম সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের নয়ডা অফিসে কাজ করার সময় এক কলিগের কথা এখনো কানে ভাষে, "তুম কল্কাত্তা কা মুসালমান  হওঁ? বাংলাদেশি তো নাহি হওঁ না? হা হা হা।"

লেখক : সাংবাদিক 

 

0 Comments

Post Comment