- 09 March, 2026
- 0 Comment(s)
- 188 view(s)
- লিখেছেন : সাবনূর সনম কামিনী
রক্তে ফ্রক ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে। গলাটা শক্ত করে ছোট্ট ছোট্ট দু-হাতে চেপে ধরে রাস্তায় টলমল পায়ে এসে দাঁড়ালো একটি বছর ছয়ের বাচ্চা শিশু, নাম ইরা। কিছুক্ষণ আগে তার প্রতিবেশী কাকা তাকে পার্কে ধর্ষণ করে গলা কেটে জবাই করে চলে গেছে। তখনো তার মধ্যে প্রাণের স্পন্দন। হাসপাতালে শ্বাসনালীর অপারেশনের সময় সেই স্পন্দন থামে। ঘটনাটি খুব টাটকা, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে ঘটেছে। ঘটনাটির মধ্যে নতুনত্ব বা অভিনবত্ব তেমন কিছু নেই। নিত্য দিন ঘটে চলা এই ধরণের সহিংসতার একঘেয়েমি খবর শুনতে আমাদের কান অভ্যস্ত। এরকম শত সহস্র ইরা, তিলোত্তমা, নির্ভয়া, কামদুনি বাসি খবর হয়ে খবরের কাগজের আস্তাকুঁড়ে পড়ে থাকে। ঝাল-মুড়ি খাওয়ার ঠোঙায় মাঝে মাঝে সেই সব বাসি শিরোনামগুলো আচমকা চোখে পড়ে যায়। খাওয়া শেষ হলে নির্বিকার চিত্তে ঠোঙাটা দুমড়ে ডাস্টবিনে ফেলি। তারপর বসে ফোন স্ক্রল করতে থাকি। কিছু আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে যায়—নারী দিবস উপলক্ষ্যে "স্পেশাল অফার", সোনা-ডায়মন্ডের গহনায় ৩০% ডিসকাউন্ট, কিচেন সামগ্রীতে ডিসকাউন্ট, শাড়িতে ডিসকাউন্ট, রূপচর্চার প্রসাধনীতে ডিসকাউন্ট। এবার মনে মনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে নারী-দিবসের জয়গান গেয়ে মনের আনন্দে শপিং করতে ঢুকি। তারপর "রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী" অবতারে কেতাবি তাত্ত্বিক ভাষণ সহকারে সেমিনারে, মঞ্চে সাড়ম্বরে উদযাপন করে থাকি নারী দিবস।
শুভেচ্ছা বার্তা, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, কর্পোরেট বিজ্ঞাপনী অফার, সেমিনার, মা-কালি,দেবী দুর্গার স্তূতি, কোন রাজনৈতিক দলে বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব আছে তা নিয়ে পারস্পরিক দড়ি টানাটানি—সব মিলিয়ে যেন নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয় এই দিনে। যেখানে আলোচনা হয় সুন্দরী, সফল, প্রতিষ্ঠিত নারীর গল্প, আর ব্রাত্য থেকে যায় শ্রমজীবী নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও সহিংসতার বাস্তবতা। অপ্রাসঙ্গিক থেকে যায় সেই শ্রমিক নারীর কথা, যিনি সমাজের 'নিচুতলায়' থেকে প্রতিদিন লড়াই করেন এক টুকরো রুটির জন্য, সম্মানের জন্য, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের রাস্তায় পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকরা দাবি জানিয়েছিলেন নারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা (৮ ঘণ্টা) এবং পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করা। ১৯১০ সালে কোপেনহেগেন সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন যে নারী দিবসের প্রস্তাব রাখেন, তার লক্ষ্য ছিল এই শ্রমজীবী নারীদের সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া। কিন্তু আজ সেই শেকড় থেকে আমরা কত দূরে সরে এসেছি!
আমরা কি কখনো ভেবে দেখি, যিনি রাত তিনটের বনগা লোকাল ধরে কলকাতাতে আমাদের গৃহ-পরিচারিকার কাজে আসছেন, যিনি আমাদের শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের দেখা-শোনার কাজ করছেন, যিনি বিড়ি শ্রমিক, ইটভাটায় কাজ করেন, মাটি কাটেন বা শহরের ঝাড়ুদার ও মেথর, ফুটপাতে হকারি করেন— তাঁদের নারী দিবস কেমন কাটে? সমাজের 'নিচুতলায়' থাকা শ্রমজীবী নারীরা প্রতিদিন যে সহিংসতার শিকার হন, যৌন হয়রানি যে তাঁদের নিত্যসঙ্গী, তার কোনো পরিসংখ্যান কি সাড়ম্বরে উদযাপিত নারী দিবসের আলোচনায় স্থান পায়? সমাজের নিম্নস্তরের শ্রমজীবী নারীরা— কৃষিশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ইটভাটার শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক, ঝাড়ুদার বা মেথর—আজও সবচেয়ে কম মজুরি, সবচেয়ে অনিশ্চিত কাজ এবং সবচেয়ে বেশি শোষণের শিকার। একই কাজ করার পরেও অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান। অপ্রাতিষ্ঠানিক বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা অসংখ্য নারী শ্রমিকের জন্য নেই সামাজিক সুরক্ষা, নেই স্বাস্থ্যসুবিধা, নেই কাজের স্থায়িত্ব। শ্রমের উপর নির্ভর করে তাদের জীবন, কিন্তু সেই শ্রমের কোনো সম্মান বা নিরাপত্তা নেই। ইটভাটায় কাজ করা মনোয়ারা বেগমের ভাষায়, "আমাদের জীবন ইটের মতো পোড়া!"
তবে সবচেয়ে বড় বঞ্চনার ক্ষেত্র হলো গৃহবধূদের অদৃশ্য শ্রম। যিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি করে রান্না-বান্না, ঘর পরিষ্কার, বাচ্চা সামলানো, বাজার সবকিছু একাই সামলান, কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রহসন হলো— তাঁর শ্রমের কোনো বাজারমূল্য নেই, কোনো স্বীকৃতি নেই, এমনকি নিজের চোখেও সেই শ্রম 'কিছু না করা' হিসেবে গণ্য হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদন বলছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারীরা পুরুষের তুলনায় চার গুণ বেশি সময় গৃহস্থালি ও বেতন বিহীন কাজে ব্যয় করেন। গবেষণায় প্রমাণিত, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) যদি এই অদৃশ্য শ্রমের মূল্যায়ন করত, তবে তা বেড়ে যেত অন্তত ৪৮ শতাংশ। কিন্তু নারীর সেই শ্রম আজও পরিসংখ্যানের অন্ধকারে হারিয়ে যায়। কিন্তু এই বিশাল অর্থনৈতিক অবদানের পরও একজন গৃহবধূকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, "আপনি কী করেন?"— তার উত্তর হয়, "আমি কিছু করি না।" এই উত্তরটাই সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গা। নারী নিজেই তাঁর কাজকে 'কিছু না করা' হিসেবে দেখেন। সমাজ তাঁকে সেটাই শিখিয়েছে যুগ যুগ ধরে। শিশুকে জিজ্ঞেস করুন, "তোমার বাবা কী করেন?" সে গর্ব করে বলবে, উকিল, ডাক্তার বা ব্যবসায়ী। কিন্তু "তোমার মা কী করেন?"— উত্তর হবে, "হাউস ওয়াইফ, কিছু করেন না, ঘরের কাজ করেন।" ঘরের কাজ মানেই যেন 'কিছু না করা'! অথচ সেই ঘরের কাজ না থাকলে পরিবারের পুরো কাঠামো ভেঙে পড়বে। পিতৃতন্ত্র স্বীকার না করলেও, যদি আমরা খালি চোখে বিচার করি, দেখতে পাবো নারীর অদৃশ্য শ্রমের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে সংসার, সমাজ, রাষ্ট্র।
নারীর শ্রমকে শোষণ করার ক্ষেত্রে পুরুষতন্ত্রের দ্বিচারিতা আজ নতুন রূপ নিয়েছে— এটি এখন নারীমুক্তির ভাষায় কথা বলে, কিন্তু তার চর্চায় থেকে যায় পুরোনো শোষণের ধারা। আগে নারীকে বলা হতো, "তুমি পারবে না, তুমি দুর্বল।" এখন বলা হয়, "তুমি সব পারবে, তুমি দশভূজা— কেরিয়ার সামলাও, সংসার সামলাও, সন্তান সামলাও, সুন্দরী থাকো, চিরযৌবনা থাকো।" এই 'সব পারার' বোঝা নয়া পিতৃতন্ত্রের নির্মিত "সুপার-উইমেন"-দের আসলে মুক্তি দিচ্ছে না, বরং নারী শ্রম শোষণের নতুন ধূর্ত কৌশল তৈরি করেছে।
ভেবে দেখুন, ইসরোর মহিলা বিজ্ঞানীদের নিয়ে যখন খবর বেরোয়, তখন বারবার জোর দিয়ে দেখানো হয় তাঁরা শাড়ি পরেন, সিঁদুর পরেন, রুটিও বানান আবার মহাকাশ বিজ্ঞানও বোঝেন। এর অর্থ কী? অর্থ হলো, নারীকে বারবার প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সংসার আর চাকরি দুটোই সামলাতে পারেন। পুরুষ বিজ্ঞানীকে কখনো জিজ্ঞেস করা হয় না, তিনি কি বাড়িতে বাচ্চাকে সময় দেন? অথচ নারী বিজ্ঞানীকে বারবার এই 'দুই নৌকায় পা' রাখার সার্টিফিকেট দিতে হয়। এটাই নয়া পিতৃন্ত্রের ফাঁদ— নারীকে একইসঙ্গে 'আধুনিক' আর 'ঐতিহ্যবাহী' দুই-ই হতে হবে। নারী যদি শুধু কেরিয়ার নিয়ে মন দেয়, তবে সে 'স্বার্থপর'। নারী যদি শুধু সংসার নিয়ে থাকে, তবে সে 'ব্যাকডেটেড'। পিতৃতন্ত্র ঠিক করে দিয়েছে নারীর জন্য 'পারফেক্ট ব্যালেন্স'-টা কেমন হবে।
বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা নারী দিবসে নারী-স্বাধীনতা নিয়ে জয়ধ্বনি করে, অথচ সারা বছর তারা নারীদেহকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এই নয়া পিতৃতন্ত্রের যুগে নারী দিবস পালনের প্রাসঙ্গিকতা তাই হয়ে ওঠে গভীরভাবে জটিল ও পরস্পরবিরোধী এক প্রশ্ন। এখন আর নারীকে সরাসরি দমন করা হয় না; বরং তাঁকে 'ক্ষমতায়নের' নামে নতুন ফাঁদে ফেলা হয়। কর্পোরেট পুঁজিবাদ নারীকে বাজারমুখী করে তোলে— একজন নারী ক্রেতা হিসেবে তাঁর 'মুক্তি' খুঁজে পান লিপস্টিকে, ফেয়ারনেস ক্রিমে, ডায়েট-ফুডে, বিকিনিতে। নারী দিবসে তাঁকে বেশি করে ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়, যেন সে বিকিনি পরে ফর্সা উজ্জ্বল ত্বকে তন্বী শরীরের প্রদর্শন করে। কর্পোরেট পুঁজিবাদ তথা নয়া পিতৃতন্ত্র বলবে এটাই তার স্বাধীনতা। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনী মডেলদের মুখে যে "দেহের স্বাধীনতা" বলে প্রচার শোনা যায়, তা আসলে নয়া পিতৃতন্ত্র আরোপিত এক নতুন ধরনের পরাধীনতা, যেখানে মগজধোলাই এমনভাবে করা হয় যে নারীর বোঝার মতো ক্ষমতা থাকে না যে তিনি সেক্স অবজেক্ট হিসেবে শোষিত হচ্ছেন, নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। এছাড়া আরেকটি সমস্যার জায়গা হলো কর্পোরেট সেক্টরে কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকে প্রায়শই বোঝা হিসেবে দেখা হয়; ফলে চাকরি হারানো, পদোন্নতি না হওয়া বা অস্থায়ী কাজে আটকে থাকার মতো বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয় অসংখ্য নারী শ্রমিককে।
একটা বিষয়ে আমাদের মনে স্ব-চেতনতা ও সু-চেতনা আসুক। নারী দিবস মানে চৈত্র সেলের স্পেশাল অফার বা ডিসকাউন্ট নয়। নারী দিবস মানে ইতিহাসের সেই সব নারীদের ঋণ শোধ করার দিন, যাদের নাম ইতিহাসে লেখা নেই; যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, গায়ের রক্ত জল করে ইট ভেঙেছে, রাস্তা বানিয়েছে, ধান কেটেছে, আর গৃহে সারা জীবন বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দিয়েছে, অথচ কখনো স্বীকৃতি বা সম্মানটুকু পায়নি।
অনেক পুরুষ অভিমান করে অনুযোগ করেন, "পুরুষ দিবস নিয়ে এত মাতামাতি হতে দেখি না, নারী দিবস নিয়ে এত আদিখ্যেতার কী আছে"! পুরুষ দিবস নিয়ে এত হইহুল্লোড় হয় না, কারণ প্রতিদিনই তো পুরুষের দিন। তুমি যখন সকালে পত্রিকা খোলো, প্রথম পাতায় যুদ্ধ জয়ের খবরে কারা থাকে? পুরুষ। তুমি যখন ব্যবসার পাতা খোলো, সাফল্যের গল্প কার? পুরুষ। তুমি যখন খেলা দেখো, ক্রিকেটার, ফুটবলার—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ। তুমি যখন বিজ্ঞানের পাতা খোলো, নোবেল জয়ীদের তালিকায় কারা এগিয়ে? পুরুষ। তুমি যখন ধর্মগ্রন্থ খোলো, ধর্মগুরুরা কারা? পুরুষ। তুমি যখন ইতিহাস পড়ো, রাজা-সম্রাট-বিজেতা— সবাই পুরুষ। তুমি যখন সিনেমা দেখো, পরিচালক, প্রযোজক— অধিকাংশই পুরুষ। তুমি যখন রাস্তায় বেরোও, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে পুলিশ, বিচারক, মন্ত্রী— সর্বত্র পুরুষের ছড়াছড়ি।
যেসব পুরুষ নারী দিবস নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেন, তারা আসলে এক সুবিধার দুর্গ থেকে কথা বলেন। কারণ তাকে কখনো ভাবতে হয় না রাত দশটায় বেরোলেও নিরাপত্তার কথা, চাকরির ইন্টারভিউতে বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে বাঁকা প্রশ্ন শুনতে হয় না, সংসারের অদৃশ্য শ্রমের বোঝা তার কাঁধে পড়ে না, মাতৃগর্ভে ভ্রূণ অবস্থায় তার লিঙ্গ পরিচিতির জন্য মার্ডার করা হয় না, পণের দাবিতে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় না, তাকে ডাইনি সন্দেহে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয় না, তাকে তার কর্মস্থলে ধর্ষণ করে পিশাচের মতো ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়া হয় না, বাসে-ট্রেনে তার স্তন-কোমরে, শরীরে কামুক হাতের স্পর্শ পেতে হয় না, নারীদের মতো মুখে অ্যাসিডে পোড়া বিকৃত ক্ষত নিয়ে জীবন্ত-লাশ হয়ে বেঁচে থাকতে হয় না, একাধিক পরকীয়া করলেও তাদের শরীর শুদ্ধ, পবিত্র থাকে, অসতী বা বেশ্যা হয়ে যেতে হয় না, যারা জোব্বা পরলো না জাঙ্গিয়া পরলো তা নিয়ে সমাজের মাথাব্যথা হয় না, সমুদ্র সৈকতে শিক্ষকের অর্ধ উলঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা গেলে তার চাকরি চলে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না, সর্বোপরি মনু-সাহেবের বিধান অনুসারে শৈশব থেকে আমৃত্যু তাকে কারো অধীন থাকতে হয় না। এই বিষয়গুলো অনুগ্রহ করে হৃদয়ঙ্গম করলে নারী দিবস নিয়ে যাঁরা ঠাট্টা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করছেন, তারাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামিল হতে পারেন নারী দিবস উদযাপনে।
আমাদের মধ্যে আবহমানকালের প্রোথিত একটি ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে নারী দিবসের উদ্দেশ্য পুরুষকে দোষারোপ করা নয়; বরং পিতৃতান্ত্রিক সমাজে যে কাঠামোগত বৈষম্য আছে তা চিহ্নিত করা এবং সমতার দাবি তোলা। নারী দিবস তাই পুরুষের বিরুদ্ধে কোনো উৎসব নয়; এটি পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও অনেক বন্ধুর পথ হাঁটা বাকি। আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে নারী দিবস কোনো বিজ্ঞাপনী ডিসকাউন্ট প্রচারের সেলিব্রেশনের মঞ্চ নয়, এটি নারীদের ঐতিহাসিক বঞ্চনা ও সংগ্রামকে স্মরণ করার দিন। তাই যতদিন লিঙ্গসাম্য বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব থাকবে।
0 Comments
Post Comment